Hit enter after type your search item

A Complete Guide for BD Job Preparation

বাংলা সাহিত্য ও চর্যাপদ

/
/
487 Views

আলোচ্য বিষয় স্মূহ- বাংলা সাহিত্যের যুগ ও বৈশিষ্ট্য, চর্যাপদ, চর্যাপদের রচনাকাল ও আবিষ্কার, চর্যাপদের ভাষা, চর্যাপদের পদসংখ্যা ও পদকর্তা এবং চর্যাপদ থেকে বিসিএস পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন সমূহ।

সাহিত্যের প্রধান লক্ষ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করা। বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১. প্রাচীন বা আদিযুগ

২. মধ্যযুগ

৩. আধুনিক যুগ

বাংলা সাহিত্যের তিনটি যুগের সময়কাল ও বৈশিষ্ট্যঃ

প্রাচীন বা আদিযুগঃ সময়কাল ৬৫০-১২০০ সাল, এই যুগের বৈশিষ্ট্য ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব

মধ্য যুগঃ সময়কাল ১২০১-১৮০০ সাল, এই যুগের বৈশিষ্ট্য ধর্ম

আধুনিক যুগঃ সময়কাল ১৮০১ সাল থেকে বর্তমান, এই যুগের বৈশিষ্ট্য স্বদেশপ্রেম ও মানবতাবোধ

চর্যাপদ

চর্যাপদ হচ্ছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা হলো কাব্য। চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য বা কবিতা সংকলন। চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হতো তাই এগুলো একইসাথে গান ও কবিতা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

‘চর্যাপদ’ সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য। বৌদ্ধদের ধর্মতত্ত্ব, দর্শনতত্ব সাধন-ভজন প্রভৃতি এ গ্রন্থে কাব্যরূপ লাভ করেছে। চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় পুঁথির  পদগুলোর সাহায্যে কোনটি চর্য (আচরনীয়) আর কোনটি অ-চর্য (অনাচরণীয়) তা বিনিশ্চয় (নির্ণয়) করা হতো।

চর্যাপদ

চর্যাপদ নামটি নিয়ে মতভেদ আছে। সুকুমার সেনের মতে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, আধুনিক পন্ডিতদের মতে চর্যাগীতিকোষ, ডক্টর হরপ্রাসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়, তবে চর্যাপদই সবার কাছে গ্রহনযোগ্য নাম।

চর্যাপদের রচনাকাল ও আবিষ্কার

চর্যাপদের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। চর্যাপদের আনুমানিক বয়স হাজার বছর। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে চর্যাপদগুলো রচিত।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ সালে

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশের মতে ৯৫০-১২০০ সালে

মহামহোপাধ্যায় ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার “রয়েল লাইব্রেরি” হতে ১৯০৭ সালে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামক পুঁথিটি আবিস্কার করেন, চর্যাপদের সাথে ‘ডাকার্ণব’ ও দোহাকোষ’ নামে আরও দুটি বই নেপালের রাজ গ্রন্থাগার হতে আবিস্কার হয়। পরবর্তিতে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদঃ’ থেকে ১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। ।

‘ডাকার্ণব’ অবহটঠ (অপভ্রংশ ভাষার পরবর্তী স্তর) ভাষায় রচিত।

চর্যাপদ নেপালে পাওয়া যাওয়ার কারণ

বাংলার পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের আমলে চর্যাগীতিগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। পাল বংশের পরে আসে সেন বংশ। সেন বংশ হিন্দুধর্মকে রাজধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধচার্যেরা এদেশ হতে বিতাড়িত হয় এবং নেপালে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাহিরে নেপালে পাওয়া গেছে।

চর্যাপদের ভাষা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা/সান্ধ্য ভাষা/আলো আঁধারি ভাষা (খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না) বলে অভিহিত করেন। সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায় তাঁর ‘বাঙালা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ’ (The Origin and Development of the Bengali language) নামক গ্রন্থে ধ্বনিতত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, পদসংকলনটি আদি বাংলা ভাষায় রচিত। আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদের ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘চর্যাপদ’বিষয়ক গ্রন্থের নাম ‘(Buddhist Mystic Songs’ । তাঁর মতে, চর্যাপদের ভাষা বঙ্গকামরূপি। তাই এই ভাষাগুলোকে বাংলার সহোদর ভাষাগোষ্ঠী বলা হয়। উল্লেখ্য যে, চর্যাপদ উড়িষ্যা, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নিজ নিজ ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসাবে বিবেচিত।

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্ত, তিনি চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। ডঃ প্রবোধ চন্দ্র বাগচি চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন।

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্ত, তিনি চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। ডঃ প্রবোধ চন্দ্র বাগচি চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন।

চর্যাপদের পদসংখ্যা ও পদকর্তা

চর্যাপদের পদসংখ্যা

              ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৫০ টি

সুকুমার সেন সহ অধিকাংশের মতে ৫১ টি

তবে কয়েক পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সর্বমোট সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে। ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে উদ্ধার করা হয়েছে অর্থাৎ এর শেষাংশ পাওয়া যায়নি এবং ২৪ (পদকর্তা-কাহ্নপা), ২৫ (পদকর্তা-তন্ত্রীপা) ও ৪৮ (পদকর্তা-কুক্কুরীপা) নং পদগুলো পাওয়া যায়নি।

চর্যাপদের পদকর্তা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র মতে ২৩ জন

সুকুমার সেন সহ অধিকাংশের মতে ২৪ জন

চর্যাপদ কর্তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়। চর্যার পদকর্তারা হলেন- লুইপা, শবরপা, কুক্কুরীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, ডোম্বীপা, সরহপা, লাড়ীডোম্বীপা প্রভৃতি।

চর্যাপদ তথা বাংলা সাহিত্যের আদি কবি

              ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র মতে শবরপা।

ড. হরপ্রসাদশাস্ত্রীসহ অধিকাংশের মতে লুইপা।

চর্যাপদের পদকর্তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন তথ্যাবলী

পদকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা ১৩ টি পদ।

পদকর্তা ভুসুকুপা পদ রচনা করেছেন ৮ টি।

পদকর্তা সরহপা পদ রচনা করেছেন ৪ টি।

পদকর্তা কুক্কুরীপা পদ রচনা করেছেন ৩ টি।

পদকর্তা লুইপা ও শান্তিপা পদ রচনা করেছেন ২ টি করে।

অবশিষ্ট পদকর্তারা প্রত্যেকে ১ টি করে পদ রচনা করেন।

পদকর্তা লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায়নি।

পদকর্তা ভুসুকুপা নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।

চর্যাপদে মোট ৬ টি প্রবাদ পাওয়া যায়।

বিসিএস পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন সমূহ

১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রচাীনতম শাখা কোনটি? (১২তম বিসিএস)

ক. ছোটগল্প

খ. নাটক

গ. কাব্য

ঘ. উপন্যাস

উত্তরঃ গ

২. চর্যাপদের সঙ্গে কোন ধর্মের নাম সংশ্লিষ্ট? (৪০তম বিসিএস)

ক. ইসলাম ধর্ম

খ. খ্রিষ্টধর্ম

গ. শিখ ধর্ম

ঘ. বৌদ্ধধর্ম

উত্তরঃ ঘ

৩. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিস্কৃত হয় কত সালে? (৩৪ তম বিসিএস/ ৩০ তম বিসিএস)

ক. ২০০৭ সালে

খ. ১৯০৭ সালে

গ. ১৯১৬ সালে

ঘ. ১৯০৯ সালে

উত্তরঃ খ        

৪. চর্যাপদ আবিস্কৃত হয় কোথা থেকে? (২৮তম বিসিএস)

ক. আরকান রজগ্রন্থাগার থেকে

খ. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে

গ. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে

ঘ. সুদূর চীন দেশ থেকে

উত্তরঃ গ

৫. বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন চর্যাপদ এর আবিস্কারক? (১৭তম বিসিএস)

ক. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

খ. ডক্টর সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায়

গ. ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

ঘ. ডক্টর সুকুমার সেন

উত্তরঃ গ

৬. চর্যাপদ এর প্রাপ্তিস্থান কোথায়? (৪৩তম বিসিএস)

ক. বাংলাদেশ

খ. নেপাল

গ. উড়িষ্যা

ঘ. ভুটান

উত্তরঃ খ

৭. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়-এর অর্থ কী? (৩৭তম বিসিএস)

ক. কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়

খ. কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়

গ. কোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয়

ঘ. কোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়

উত্তরঃ খ

৮. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কতৃক প্রকাশিত চর্যাপদ কে সম্পাদনা করেন? (৭ম বিসিএস)

ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

খ. শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

গ. ড.দীনেশচন্দ্র সেন

ঘ. শ্রী হরলাল রায়

উত্তরঃ খ

৯. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি? (৩৫তম বিসিএস)

ক. নিরঞ্জনের রুম্মা

খ. দোহাকোষ

গ. গোপীচন্দের সন্ন্যাস

ঘ. ময়নামতীর গান

উত্তরঃ খ

১০. সন্ধ্যাভাষা কোন সাহিত্য কর্মের সঙ্গে যুক্ত ? (৪২তম বিসিএস)

ক. চর্যাপদ

খ.পদাবলি

গ. মঙ্গলকাব্য

ঘ. রোমান্সকাব্য

উত্তরঃ ক  

১১. The Origin and Development of the Bengali Language গ্রন্থটি রচনা করেছেন? (৩৩তম বিসিএস)

ক. ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

খ. ড. সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায়

গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

ঘ. স্যারর জর্জ গ্রিয়ারসন

উত্তরঃ খ

১২. চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা? (৩৩তম বিসিএস)

ক. অক্ষয়বৃত্ত

খ. মাত্রাবৃত্ত

গ. স্বরবৃত্ত

ঘ. অমিত্রাক্ষর ছন্দ

উত্তরঃ খ

১৩. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? (৩৭তম বিসিএস)

ক.Buddhist Mystic Song

খ.হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান দোহা

গ.চর্যাগীতিকোষ

ঘ.চর্যাগীতিকা

উত্তরঃ ক

১৪. কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন? (৪১তম বিসিএস)

ক. কাহ্ণপা

খ. লুইপা

গ.ডাকার্ণব

ঘ. মুনিদত্ত

উত্তরঃ ঘ

১৫. বাংলা সাহিত্যের (চর্যাপদের ) আদি কবি কে? (২৯তম বিসিএস)

ক. কাহ্নপা

খ. চেগুনপা

গ. লুইপা

ঘ. ভুসুকুপা

উত্তরঃ গ

FAQ Section

চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?

মহামহোপাধ্যায় ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার “রয়েল লাইব্রেরি” হতে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিস্কার করেন।

চর্যাপদ কী?

চর্যাপদ হচ্ছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হতো তাই এগুলো একইসাথে গান ও কবিতা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

চর্যাপদের আদি কবি কে?

চর্যাপদ তথা বাংলা সাহিত্যের আদি কবি
              ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র মতে শবরপা।
ড. হরপ্রসাদশাস্ত্রীসহ অধিকাংশের মতে লুইপা।

চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান?

চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার “রয়েল লাইব্রেরি”

চর্যাপদের পদকর্তা কতজন?

চর্যাপদের পদকর্তা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র মতে ২৩ জন
সুকুমার সেন সহ অধিকাংশের মতে ২৪ জন

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার কে?

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্ত, তিনি চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। ডঃ প্রবোধ চন্দ্র বাগচি চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar
error: Content is protected !!